আজ অহৈয়াঅষ্ঠমী বা বহুলাঅষ্টমী।
আজ অহৈয়াঅষ্ঠমী বা বহুলাঅষ্টমী।
আজকের এই দিনে রাধাকুন্ড ও শ্যামকুন্ডের উৎপত্তি হয়েছিল। আজ মধ্যরাতে শ্রীকৃষ্ণের আহ্বানে পৃথিবীর সমস্ততীর্থ শ্যামকুন্ড ও রাধাকুন্ডে আগমণ করছিল।
কিভাবে উৎপত্তি হলো?
কংস কৃষ্ণকে মরার জন্য ব্রজে অরিষ্ঠাসুরকে প্রেরণ করে। এই অসুর সখা,গো-গণের মধ্যে প্রবেশ করে।নিষ্ঠুর নিনাদে গোপ-গোপীদের প্রাণ ভয়ে সৃষ্টি হয় এবং সকলে হা কৃষ্ণ হা কৃষ্ণ রক্ষা কর " বলে চিৎকার করে বলে। "তোমাদের ভয় নেই " বলে আশ্বস্ত করেন । সেই অসুর শ্রীকৃষ্ণের দিকে ক্রোধে ধাবিত হলে, শ্রীকৃষ্ণ তাঁর শৃঙ্গের অগ্রভাগ ধারণ করে তাকে ভূমিতে পতিত করলেন। অসুর শ্রীকৃষ্ণের হাতে নিহত হয়ে মুক্তি লাভ করেছিল।
স্বয়ং নন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণ যে দিন অরিষ্ঠাসুর বধ করেন সেদিন রাতে শ্রীকৃষ্ণ ব্রজরমাগণের কাছে রাসস্থলীতে রাসলীলার প্রার্থনা করলে গোপীগণ মৃদুমন্দ হাসি দিয়ে বলল, "হে বৃষাসুর মদ্দন আমাদের স্পর্শ করবে না। আজ তুমি বৃষকে হত্যা করে তোমার গোবিন্দ নামে কালিমা লেপন করছে অতএব তুমি গোবধ পাপে লিপ্ত হয়েছ।"
শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "হে সুন্দরীগণ, সে তো বৃষ নয় ছিল এক ভয়ঙ্কর অসূর। "গোপীগণ বললেন," শোন বিশ্বরূপকে, বধ করে ব্রহ্মশাপ পায়। তাকে বধে ইন্দ্রের ব্রহ্মহত্যা পাপ স্শর্শ করে। ঠিক তেমনি এটাও বৃষরূপ ছিল। তোমার গোহত্যা পাপ হল শ্যাম।"
গোপীগণের যুক্তিপূর্ণ কথা শুনে গোবিন্দ বললেন, "হে প্রিয়ে, তাহলে বল? আমি এখন এই পাপ হতে কিরূপে মুক্ত হতে পারি?"
তদুত্তরে গোপী বললেন, "হে প্রিয়তম তুমি যদি ত্রিভুবনের সমস্ত তীর্থে অবগাহন করতে পারি তবেই তুমি সকল পাপ মুক্ত হবে।" তখন শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "আমি এই ব্রজভূমি ত্যাগ করে এখন ত্রিভুবনের তীর্থস্থানের জন্য কোথায় যাব?
এখনই আমি সমস্ত ত্রিভুবনের সকল তীর্থকে আহ্বান করে তোমাদের সামনে তাতেই স্নান করব। "এই বলে শ্রীকৃষ্ণ ঐ স্থানে সজোরে চরণের আঘাত করলে সঙ্গে সঙ্গে পাতাল হতে ভগবতী গঙ্গা এবং নিখিল তীর্থ এসে উপস্থিত হল।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন," তোমরা সকলে আমার কুন্ডে বিরাজমান হও।" শ্রীকৃষ্ণের ডাকে মুহুর্তে মধ্যে সকল তীর্থে ওখানে কুন্ডের মধ্যে বিরাজমান হল। শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "হে প্রিয়ে; দেখ সকল তীর্থ এখানে উপস্থিত হল।" গোপীরা বলল, "হে শ্যাম হবে না, তুমি মুখে বলে আমরা বিশ্বাস করব না। সকল তীর্থ যদি মুর্তিমান হয়ে নিজের পরিচয় দেয় তাহলে বিশ্বাস করব আমরা।"
তখন সকল তীর্থ মুর্তিমান হয়ে নিজেদের পরিচয় দিতে লাগল, আমি লবণ সমুদ্র, আমি ক্ষীর সাগর, আমি অমর দীর্ঘিকা, আমি শোন নদী, আমি ভাদ্রপণী, আমি পুষ্কররাজ, আমি প্র্য়াগ রাজ, আমি গঙ্গা, আমি গোদাবরী, আমি সরযু, আমি সরস্বতী, আমি যমুনা ইত্যাদি বললেন সকল তীর্থ জল পৃথক পৃথক দর্শন করুন,আমাদের বিশ্বাস করুন।"
তখন সকল তীর্থ মুর্তিমান হয়ে নিজেদের পরিচয় দিতে লাগল, আমি লবণ সমুদ্র, আমি ক্ষীর সাগর, আমি অমর দীর্ঘিকা, আমি শোন নদী, আমি ভাদ্রপণী, আমি পুষ্কররাজ, আমি প্র্য়াগ রাজ, আমি গঙ্গা, আমি গোদাবরী, আমি সরযু, আমি সরস্বতী, আমি যমুনা ইত্যাদি বললেন সকল তীর্থ জল পৃথক পৃথক দর্শন করুন,আমাদের বিশ্বাস করুন।"
তখন শ্রীকৃষ্ণ সেই তীর্থে স্নান করে পবিত্র হয়ে দাম্ভিকতা প্রকাশ করে বললেন, "আমি সকল তীর্থময় কুন্ডে প্রকাশ করলাম। তোমরা কোন তীর্থে কোনদিন স্নান করি নি। এই কুন্ডে স্নান করে সর্বতীর্থ স্নানের মহিমা অর্জন করো।" তখন শ্রীমতি বললেন, "হে সখীরা, আমরাও এই রকম একটা কুন্ড বানাব। তোমরা সকলে মিলে কাজ শুরু করো। " স্বামিনীজী আজ্ঞা পেয়ে সখীগণ শ্রীকৃষ্ণকুন্ডের পশ্চিমে অরিষ্ঠাসুরের পায়ে আঘাতে এক গহ্বর ছিল। তারা নিজ হাতে তা কুড়ে নরম মাটি দূরে ফেলতে লাগলেন। দেখতে দেখতে এক মনোরম কুন্ডে পরিণত হল। কিন্তু জল নেই তা দেখে শ্রীরাধিকাকে বললেন- " অতীব সুন্দর কুন্ড জল তো নেই। অতএব তোমরা সখীরা সকলে মিলে আমার কুন্ডের জল এনে এই কুন্ড পূর্ণ কর।
শ্রীরাধা বলল, "না তা কখনো না। তুমি স্নান করাতে ঐ জলে গোহত্যার পাপযুক্ত হল। আমরা মানসী গঙ্গা থেকে জল আনব কুন্ড পূর্ণ করব। তোমার কুন্ডের এক বিন্দু জল নেব না।" রাধারাণীর এই কথা শুনে শ্রীকৃষ্ণ মৃদুমন্দ হাসলেন। হাসতে হাসতে সকল তীর্থকে ইঙ্গিত করলেন।
সকল তীর্থ শ্যামকুন্ডের বাহিরে এসে দিব্য মূর্তি ধারণ করে ভক্তিপূর্ণ বিনয় হয়ে শ্রীবৃষভানুনন্দিনীর শ্রীচরণারবিন্দে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে করজোড়ে স্তুতি করতে করতে বললেন, "হে দেবী, সকল শাস্ত্র, ব্রক্ষা মহাদেব এমনকি লক্ষ্মীদেবীও আপনার মহিমা জানে না, এই মহিমা জানে শুধু শ্যাম। আহা! শ্রীকৃষ্ণ আপনার শ্রীচরণকমল মনোহর সুসজ্জিত করে প্রতিদিন নুপুর পরিধান করে থাকেন এবং আপনার কৃপা কটাক্ষ প্রাপ্তিতে পরমানন্দিত হয়ে শ্যাম নিজেকে ধন্য মনে করে থাকেন।
হে দেবী যদি আপনি আমাদের প্রতি কৃপাপূর্ণ দৃষ্টি করেন তাহলে আমাদের তৃষ্ণিত প্রাণে তৃষ্ণা মিটবে। শ্রীরাধিকা বললেন "হে তীর্থগণ কি তোমাদের অভিলাষ বলো আমাকে। তীর্থগণ বললেন, "আমাদের মনের ইচ্ছা আমরা আপনার কুন্ডে যাব। এতে আমাদের মনোকামনা সফল হবে।"
তখন শ্রীবৃন্দাবনেশ্বরী সকল সখীদের সম্মতি নিয়ে প্রাণবল্লভ শ্যামের বদনে নয়ন দিয়ে সকলতীর্থকে বলল, হে তীর্থগণ আমার কুন্ডে তোমরা সকলে আগমন কর।
শ্রীস্বামিনীরজী শ্রীমুখের আজ্ঞা পেয়ে তীর্থগণ মহাআনন্দে উভয়কুন্ডের মধ্যস্থলের আবরণ সজোরে ভেদ করে নিজেদের জল শ্রীরাধাকুন্ড পরিপূর্ণ করে দিলেন। সেইদিন ছিল আজকের এই কৃষ্ণাষ্ঠমী তিথি। তখন শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "হে প্রিয়তমে জগতে আমার কুন্ডের থেকে তোমার কুন্ডের মহিমা সবথেকে বেশী খ্যাতি লাভ করবে। এবং আমিও তোমার কুন্ডে প্রতিদিন স্নান এবং জলবিহার করব। হে রাধে তুমি যেমন আমার প্রিয়া ঠিক তেমনি শ্রীরাধার এই কুন্ডও আমার প্রিয়া।
শ্রীরাধা তখন প্রাণনাথের বচনামৃত শুনে বললেন, " হে প্রিয়তম আমিও সখীদের নিয়ে প্রতিদিন তোমার কুন্ডে স্নান করব এবং যে ব্যক্তি ভক্তি করে এই কুন্ডে স্নান করবে ও তীরে বাস করবে তাদের শত বাধা বিঘ্ন বিনাশ হবে এবং সেই ব্যক্তি আমার অবশ্যই অত্যন্ত প্রিয় হবে।
এইরূপ সেই রাতে শ্রীরাধাকুন্ড তটে শ্যামজলধরের সাথে শ্রীমতি রাস সম্পন্ন করেন।
এইরূপ সেই রাতে শ্রীরাধাকুন্ড তটে শ্যামজলধরের সাথে শ্রীমতি রাস সম্পন্ন করেন।
কুন্ড নয় এই দুটো। সাক্ষাৎ রাধা আর শ্যাম।ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন অপ্রকট হয়ে গিয়েছিল তখন এই রাধাকুন্ড আর শ্যামকুন্ড প্রায় লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। চারিদিকে গাছের পাতা, শেওলাতে ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। কৃষ্ণের পুত্র প্রদ্যুম্ন তার পুত্র অনিরুদ্ধ তার পুত্র ব্রজনাভ কুন্ড দুটোর সংস্কার করেন। তাঁর অপ্রকটের পর কুন্ডদ্বয় লুপ্ত হয়ে যায়।
মহাপ্রভু যখন কুন্ড দুটো খোঁজ করতে থাকেন। ওখানে তখন বনজঙ্গল চারপাশে, তখন রাধাকুন্ড শ্যামকুন্ড নাম ছিল না। ছিল কারী ও গৌরী নামে দুটো কুন্ড আবার অনেকে ধানক্ষেত্র বলত। গ্রামের লোকের সামনে মহাপ্রভু দুইক্ষেত্রের জলে স্নান করলেন। প্রেমে প্রভু রাধাকুন্ডের স্তুতি করলেন।
||হরেকৃষ্ণ ||
👉 সবাইকে জানার জন্য শেয়ার করুন।
👉 প্রতিদিন সনাতন ধর্মীয় মূলক পোষ্ট ও ভজন কীর্তন ভিডিও দেখতে পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন।




No comments