কাঠমান্ডু শহরের
কাঠমান্ডু শহরের ৮ কিলোমিটার দূরে নারায়ণস্থান। নেপালিরা বলে ‘বুঢ়া নীলকণ্ঠ’। কয়েক হাজার বছর আগে নারায়ণস্থানে এক কৃষক তার সদ্য ক্রীত পাহাড়ে চাষের জমি তৈরী করার কাজে ব্যস্ত ছিল। জমি চষতে চষতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হল। জমি চষা প্রায় শেষ পর্যায়ে। কৃষক ভাবছিল আর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি ফিরে যাবে। হঠাৎই শেষ বিকেলের সেই ম্লান আলোয় লাঙ্গলের ফলাটা কোন একটা জিনিষে আটকে গেল। অনেক চেষ্টা করেও সে লাঙ্গলটা আলাদা করতে পারল না। তখন সে একান্ত বাধ্য হয়েই ফিরে গেল গ্রামে। পরদিন খুব ভোরে লোকজন নিয়ে এসে কিসে আটকাল ভাল করে দেখতে গিয়ে নজরে এল কালো কুচকুচে একটা পাথরের খাঁজ আর তাতে লাঙ্গলের ফলাটা আটকে গেছে। কিছুটা খুঁড়তেই ধীরে ধীরে ফুটে উঠল মুখ, চোখ, নাক। মুহূর্তেই খবরটা চাউর হয়ে গেল গ্রামে। আশপাশের আট-দশটা গ্রাম ভেঙ্গে পড়ল সেই কৃষকের জমিতে। খুব সাবধানে খোঁড়া হল জমির কিছুটা অংশ। আবিষ্কৃত হল অনন্ত শয্যায় শায়িত শ্রী বিষ্ণুর মূর্তি। জমি থেকে দশ ফুট উঁচু, দৈর্ঘ্যে বিশ ফুট ও প্রস্থে আট ফুট। ডান পা টা রাখা আছে বাম পায়ের উপর ক্রশ করে। চক্ষু দুটি নিবন্ধ। চার হাতে চারটি বিশেষ মুদ্রায় শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম। বিস্ময়ের ব্যাপার হল এই বিশাল মূর্তিটা কে, কখন, কিভাবে তৈরী করল কারো জানা নেই। বিশাল একটা পাথরকে কেটে অনুপম ভাষ্কর্যে মূর্তিটা তৈরী করা হয়েছে। মূর্তির চারপাশে পাথরের বেদীতে অনন্তনাগের গাত্রাবরন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে মূর্তির চারপাশে গভীর পরিখা করে জল রাখা হয়েছে। বিশাল বারিধি মাঝে অনন্ত শয্যায় শায়িত নারায়ণ মূর্তি। পায়ের দিকে পাথরের ও কাঠের বেদী করে পূজা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। ভক্তরা আবিরে আবিরে রক্তিম করে তুলতে সচেষ্ট নারায়ণের পাদুকা। আমিও গভীর ভক্তিভরে পূজার নৈবেদ্য দিলাম নারায়ণের পদযুগলে। ভক্তিপ্রণত হয়ে প্রণাম করলাম ঠাকুর তোমার অশেষ বিভূতির ফলে আজ আমার নয়নজোড়া সার্থক হল

No comments